ফোন: ০৪৩১-২১৭৭৭৮৭
ইমেল:karbarisal@gmail.com

আয়করে প্রবৃদ্ধি দেশ ও দশের সমৃদ্ধি

প্রশ্ন ও উত্তর

করদাতার সাধারণ জ্ঞাতব্য বিষয়


১। প্রশ্ন: আয়কর রিটার্ন কি?
উত্তর: আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট একজন করদাতার বার্ষিক আয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ উপস্থাপন করার মধ্যমে হচ্ছে আয়কর রিটার্ন। আয়কর রিটার্ন ফরম এর কাঠামো আয়কর বিধি দ্বারা নির্দিষ্ট করা আছে। আয়কর আইন অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নির্দারিত ফরমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়।

২। প্রশ্ন: আয়কর রিটার্ন কারা দেবেন?
উত্তর: কোন ব্যক্তি (individual ) করদাতার আয় যদি বছওে ২,৫০,০০০/- টাকার বেশী হয় তবে তাকে রিটার্ন দিতে হবে। মহিলা এবং ৬৫ বছর বা তদুর্ধ্ব বয়সের পুরুষ করদাতার আয় যদি বছরে ৩,০০০০০/- টাকার বেমি, প্রতিবন্ধী করদাতার আয় যদি বছরে ৪,০০০০০/- টাকার বেশী এবং গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতার আয় যদি বছরে ৪,৫০,০০০/- টাকার বেশী হয় তাহলে তাকে রিটার্ন দিতে হবে। তবে আয়ের পরিমান যা-ই হোক না কেন কতিপয় ব্যক্তির ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। তাদের তালিকা নীচে দেয়া হলো:
১. আয়বর্ষে করযোগ্য আয় থাকলে:
২. আয়বর্ষের পূর্ববতী তিন বছরের যে কোন বছর করযোগ্য আয় নিরুপিত হলে:
৩. সিটি কর্পোরেশন অথবা বিভাগীয় ও জেলা শহরের পৌরসভায় বসবাসকারীদের:
ক) একটি গাড়ীর মালিক হলে:

                    খ) মূল্য সংযোজন কর আইনে নিবন্ধিত কোন ক্লাবের সদস্য হলে:

৪. সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদে ব্যবসা পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্স এবং ব্যাংক এ্যাকাউন্ট থাকলে:
৫. ডাক্তার,দন্ত চিকিৎসক, আইনজীবী, আয়কর আইনজীবী, চার্টর্ড একাউন্টেন্ট, কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট  এ্যাকাউন্টেন্ট, প্রকৌশলী, স্থপতি, সার্ভেয়ার অথবা সমজাতীয় পেশায় নিয়োজিত সকল ব্যক্তিবর্গ:
৬. চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অথবা কোন ট্রেড এসোসিয়েশনের সকল সদস্য:
৭. পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন অথবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল পদপ্রার্থী:
৮. সরকারী, আধা-সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা অথবা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ঠিকাদারী কাজে টেন্ডারে অংশগ্রহনকারী সকল ব্যক্তি বা প্রত্তিষ্ঠান:

৩। প্রশ্ন: রিটার্ন ফরম কোথায় পাওয়া যাবে?
উত্তর: সকল আয়কর অফিসে আয়কর রিটার্ন ফরম পাওয়া যায়। একজন করদাতা সারা বছর সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আয়কর অফিস থেকে রিটার্ন সংগ্রহ করতে পারেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েব সাইট www.nbr-bd.org থেকেও রিটার্ন download করা যায়। রিটার্নের ফটোকপিও গ্রহণযোগ্য।

৪। প্রশ্ন: কখন রিটার্ন দাখিলের সময়?
উত্তর: কোম্পানী ব্যতীত অন্যান্য প্রায় সকল শ্যেনীর করদাতার ক্ষেত্রে প্রতি বছর ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বও এই ৩ মাস সময়সীমার মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব না হলে একজন করদাতা রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য উপযুক্ত কারণ উল্লেখ কওে উপ কর কমিশনারের কাছ সময়ের আবেদন করতে পারেন। সময় মঞ্জুর হলে বর্ধিত সময়ের মধ্যে সাধারণ অথবা সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধিতির আওতায় রির্টান দাখিল করা সম্ভব।

৫। প্রশ্ন: রিটার্ন দাখিল না করিলে কি হয়?
উত্তর: সময়মত আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে জরিমান করার বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উপ কর কমিশনার সর্বশেষ কর নির্ধারণে প্রদেয় করের ১০% পর্যন্ত এককালীন জরিমানা করতে পারেন। তবে এককালীন এ জরিমানার পরিমান ১,০০০/- টাকার কম হবে না। এছাড়াও রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় পর পরবর্তী প্রতিদিনের ব্যর্থতার জন্য ৫০/- হারে জরিমান করার বিধান রয়েছে।

আয়কর সংক্রান্ত আরোও কতিপয় জ্ঞাতব্য বিষয় :


১। আয়কর রিটার্ণ, সম্পদ ও দায় বিবরণী এবং জীবন যাত্রার মান সম্পর্কিত তথ্য ছকে সঠিক তথ্য প্রদান করিয়া ঘোষিত আয়ের ভিত্তিতে কর পরিশোধ করা প্রত্যেক করদাতার নাগরিক দায়িত্ব।
২। প্রদর্শিত আয়ের হিসাবের খাতাপত্র এবং তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
৩। আয়কর রিটার্ণ প্রস্তুতকরণ এবং তাহা দাখিলে পর্যাপ্ত সাবধানতা Aej¤^b করা আবশ্যক।
৪। জরিমানা পরিহারের জন্য বিধিবদ্ধ সময়সীমার মধ্যে তথ্য-প্রমাণসহ আয়কর রিটার্ণ দাখিল করা বাঞ্ছনীয়।
৫। সম্ভাব্য সরল সুদ পরিহারকল্পে যথাসময়ে অগ্রিম করের কিস্তি পরিশোধ করা আবশ্যক।
৬। উৎসে কর কর্তনকারী সকল কর্তৃপক্ষের জন্য কর্তনকৃত/সংগৃহীত কর বিধি সম্মত সময়সীমার মধ্যে সরকারী কোষাগারে জমা প্রদান পূর্বক কর বিভাগে তথ্য প্রেরণ করা আবশ্যক।
৭। সম্ভাব্য জটিলতা পরিহারকল্পে আয়ের কোন উৎস হইতে আয়কর কর্তন করা হইলে তাহার তথ্যাবলী সংগ্রহ করিয়া রাখা আবশ্যক।
৮। কর নির্ধারণী আদেশের বিষয়ে কোন আপত্তি থাকিলে আদেশ প্রাপ্তির ৪৫ দিনের মধ্যে আপীল দায়ের এবং আপীল আদেশ প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে ট্রাইবুনালে আবেদন দাখিল করিতে হইবে।
৯। কর অফিসের নোটিশ বা পত্র প্রাপ্ত হইলে অবহেলা না করিয়া তাহার জবাব প্রদান করা বাঞ্ছনীয়।